নারীদের নিয়ে ভাবনার শেষ নেই। তাদের ওঠা-বসা, কথাবার্তা, সাজপোষাক, বিয়েশাদী, প্রেম-পরকীয়া, শিক্ষা-সহবত, কোনটা রেখে কোনটা বলি। সব বিষয়েই তাদের নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিতে ব্যবচ্ছেদ করা হবেই অথচ পুরুষদের নিয়ে তেমন কোনো কথাবার্তা নেই। তারা যেন সব ধোয়া তুলসীপাতা। অথচ তাদের পছন্দ অপছন্দের নিরিখেই নারীদের জীবন তোলপাড়। সেই অনেকটা যেন গিন্নী বলেন যা কিছু হোক কেষ্টা ব্যাটাই চোর। ঘটনা যাই ঘটুক মেয়েদের দিকেই আঙ্গুল তোলা হয়। অবভিয়াসলি সেটা পুরুষশাসিত সমাজপতিরাই তোলেন।
জানি, এখন অনেকে বলবেন, না ভাই, ও যুগ আর নেই।
এখন মেয়েদের হাতেই সবকিছু। দেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী। বিরোধী দলেও রয়েছে নারী, দলে দলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, পলিটিক্স , সংসদে, কোথায় নারীর পদচারণা নেই। এখন তো জামায়াত ইসলামের নারীরাও হাত মুখ ঢেকে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, টক-শো, দলীয় সমাবেশ থেকে শুরু করে সর্বত্র বিরাজমান। অচিরেই তাদের চলচিত্র কিংবা সাংস্কৃতিক প্রচারনাতেও দৃশ্যমান হতে হবে বলে অনেকে ধারণা করেন অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের রূপায়ন ভিন্নতর হচ্ছে।
সময় মানুষকে বদলে দেয়। সময়ের বিভিন্ন পট পরিবর্তনে সমাজও পরিবর্তিত হয়। তাই নারী বিষয়ক চিন্তাভাবনাও পূর্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইন্টারনেটের শক্তিশালী প্রভাব, মোবাইলের সহজ প্রাপ্যতা, দৃষ্টিভঙ্গির দ্রুত পরিবর্তন, পার্শ্ববর্তী ভারতীয় সংস্কৃতির প্রবল চাপ, উচ্চাকাক্সক্ষা, দূর্নীতি প্রভৃতির বদৌলতে নারী জীবন এখন অন্যরকম।
উচ্চ শিক্ষিত নারীদের মধ্যে অধিকাংশ এখন স্বনির্ভর দায়িত্বশীল এবং পুরুষের পাশাপাশি সচেতন এবং পারস্পারিক সমঝোতার মধ্যে বেগবান। যদিও সেখানে দাম্পত্য জীবন বেসামাল এবং ভঙ্গুর। বর্তমান জরিপের আওতায় ডিভোর্সের সংখ্যা কল্পনাতীত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই বেশীরভাগ ডিভোর্স প্রদান করছে। কারণ পরকীয়া, সমকামিতা, অবাধ মেলামেশা প্রভৃতি।
অন্যদিকে নিম্নশ্রেণীর নারীরা শ্রমিক, মজুর, কাজের বুয়া শ্রমজীবী মানুষ। তাদের কাঁধেও সংসারের বোঝা।
স্বামী এক দুই তিন চার বিয়ে করে বিভিন্ন মাত্রায় ফেলে যায়। স্ত্রীরাও এখন পিছিয়ে নেই। তারাও এখন বিড়ি ফুঁকে, মা-বাবা ছেড়ে, সংসারী আবহ বাদ দিয়ে অবাধ স্বাধীনতায় যাযাবর সংসারী জীবন বেছে নেয়। সেখানেও নারীরা ইট ভাঙ্গছে, মাটি কোপাচ্ছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংসারের আয় ব্যয়ের হিসাবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে। অতএব সে জায়গাতেও নারীরা আগের মত লজ্জাবতী লতার মত কুকঁড়ে নেই। পুরুষের পাশাপাশি সংসারের ঘানি ঘোরাচ্ছে।
এদেশের অধিকাংশ ধর্মভীরু মা-বোনেরা যারা এখনো নারীবাদী ভাবসাবে তেমন একটা অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি, তারা আবার আযহারীসহ বহু বিশিষ্ট হুজুরদের বয়ান শোনা, পর্দার আড়াল থেকে হাদিস-কুরআন বোঝা, কত নফল ইবাদতে কত সওয়াব পাওয়া যাবে এবং কত দ্রুত জান্নাতে যাওয়া যাবে সেই স্বপ্নে মশগুল। সেসব সরলপ্রাণ মা-বোনেরা এক আধ্যাত্মিক জগত নির্মাণে বিভোর। তাদের কাছে নারীর ক্ষমতায়ন, নিজস্ব অধিকার, স্বাতন্ত্রতা নিদেনপক্ষে আপন অস্তিত্ব রক্ষারও কোনো দাবদাহ নেই। আছে ¯্রফে অবলা নারীর চোখের জল। অবশ্য অনেকক্ষেত্রে তা বেশ কাজেও দেয়।
যাই হোক, অন্যত্র আবার হাওয়া হাওয়া ও হাওয়া নারীগণ উড়ে উড়েই বেড়াচ্ছেন। তাদের কোন চিন্তাভাবনা, ঘর-সংসার, সন্তানাদি নিয়ে কোনো টেনশন নেই। ‘হাওয়া মে উড়তা যায়ে মোর লাল দোপাট্টা….’ উড়িয়েই তারা তাদের নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত। পজিশনে তারা আবার সব বেজায় মস্ত। তাদের পর্যন্ত পৌঁছানোই মুশকিল। অতএব তাদের কাছে সাধারণ মধ্যবিত্ত নারীদের বক্তব্য ‘অরণ্যে রোদন’ ছাড়া আর কিছু নয়।
সুতরাং এভাবেই চলছে, চলুক। আমিও এর মধ্যেই কোনো না কোনো স্থানে বিরাজমান। এছাড়া উপায় কি। পুরুষেরা এগিয়ে আসুক। নারীদের সঠিক সম্মানে পরস্পরের সহমর্মিতায় রচিত হোক আগামী সময়।

